০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় রাজনীতিতে একের পর এক ‘কিংস পার্টি’র আবির্ভাব

ছবিঃ সংগৃহীত

ডেস্ক নিউজ 

বিএনপির পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার নিজেদের ছত্রছায়ায় “কিংস পার্টি” গঠন করে বিরোধী দলগুলোতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। আগেও নির্বাচনের সময় বিএনপি এই ধরণের অভিযোগ তুলেছিল।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় এই ধরণের কয়েকটি দল গঠনের কথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচলিত আছে। তবে সেই সময় গঠিত কল্যাণ পার্টি ছাড়া বাকি সব দলই এখন প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। 

“সরকার বা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতা রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা এই উপমহাদেশে নতুন নয়। কিন্তু এসব করে চূড়ান্তভাবে লাভ হয় না,”

বিষয়টি নিয়ে  এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বেশ তীব্রভাবে সরকার ও দলছুট নেতাদের খোঁচা দিয়েছিলেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

“শেখ হাসিনার সরকার এখন মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের মতো তথাকথিত কিংস পার্টি, ভুঁইফোড় পার্টি, ড্রিংকস পার্টি, ছিন্নমূল পার্টি তৈরি করে তাদের দিয়েই তামাশার নির্বাচন মঞ্চস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন,” বলেন তিনি। 

“বিভিন্ন দল থেকে নেতা কিনতে গরুর হাটের মতো দরদাম চলছে।”

বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে আমাদেরও নিয়মিত চাপ দেওয়া হচ্ছে।  বলা হচ্ছে, ভোটে গেলে জায়গা হবে সংসদে – না গেলে মির্জা ফখরুলদের মতো জেলে।”

“আমাদের দলের নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে থেকে আমরা জেলে যেতে প্রস্তুত, তবু কোনো তামাশার নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে যাব না,” বলেন তিনি।

তবে দলছুট কোনো নেতাই বিএনপিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না। শমসের মবিন চৌধুরী ক্যন্সার সহ স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে প্রায় আট বছর আগে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। অপরদিকে তৈমুর আলম খন্দকার অনেকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেই কোণঠাসা ছিলেন। এছাড়া যেসব সাবেক সংসদ সদস্য নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন বা বহিষ্কৃতও হয়েছিলেন। কেউ কেউ ছিলেন দলের ৫০২ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির সদস্য। 

গত সপ্তাহে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনএম-এর দায়িত্বে থাকা তৈমুর আলম খন্দকার, যিনি ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী হয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একে “রাষ্ট্রীয় বিষয়” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

বিএনপি’র অনুপস্থিতির কারণে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি – এই সমালোচনা থেকে রেহাই পেতেই মূলত সরকার নতুন নতুন দল গঠন নিয়ে তৎপর।

জাতীয় পার্টির পাশাপাশি “তৃণমূল বিএনপি”, “বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট” ও “স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চ” নামে সংগঠন গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা।

তৃণমূল বিএনপি’র নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার। এছাড়াও বিএনপির বেশ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

“নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার বিষয়টি দুই রকম। প্রথমত, রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ।  বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনের বাইরে থাকে, এটাকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যায় না।”

“আবার যদি নির্বাচনের দিন সত্যিকার অর্থেই বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিত হয়ে যায়, তাহলে সেটাকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যাবে।

“তবে সেটা হবে কি না তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

জাতীয় রাজনীতিতে একের পর এক ‘কিংস পার্টি’র আবির্ভাব

প্রকাশিত : ০৪:১৩:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

ডেস্ক নিউজ 

বিএনপির পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার নিজেদের ছত্রছায়ায় “কিংস পার্টি” গঠন করে বিরোধী দলগুলোতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে। আগেও নির্বাচনের সময় বিএনপি এই ধরণের অভিযোগ তুলেছিল।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় এই ধরণের কয়েকটি দল গঠনের কথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচলিত আছে। তবে সেই সময় গঠিত কল্যাণ পার্টি ছাড়া বাকি সব দলই এখন প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। 

“সরকার বা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতা রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা এই উপমহাদেশে নতুন নয়। কিন্তু এসব করে চূড়ান্তভাবে লাভ হয় না,”

বিষয়টি নিয়ে  এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বেশ তীব্রভাবে সরকার ও দলছুট নেতাদের খোঁচা দিয়েছিলেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

“শেখ হাসিনার সরকার এখন মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের মতো তথাকথিত কিংস পার্টি, ভুঁইফোড় পার্টি, ড্রিংকস পার্টি, ছিন্নমূল পার্টি তৈরি করে তাদের দিয়েই তামাশার নির্বাচন মঞ্চস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন,” বলেন তিনি। 

“বিভিন্ন দল থেকে নেতা কিনতে গরুর হাটের মতো দরদাম চলছে।”

বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে আমাদেরও নিয়মিত চাপ দেওয়া হচ্ছে।  বলা হচ্ছে, ভোটে গেলে জায়গা হবে সংসদে – না গেলে মির্জা ফখরুলদের মতো জেলে।”

“আমাদের দলের নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে থেকে আমরা জেলে যেতে প্রস্তুত, তবু কোনো তামাশার নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে যাব না,” বলেন তিনি।

তবে দলছুট কোনো নেতাই বিএনপিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন না। শমসের মবিন চৌধুরী ক্যন্সার সহ স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে প্রায় আট বছর আগে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। অপরদিকে তৈমুর আলম খন্দকার অনেকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেই কোণঠাসা ছিলেন। এছাড়া যেসব সাবেক সংসদ সদস্য নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন বা বহিষ্কৃতও হয়েছিলেন। কেউ কেউ ছিলেন দলের ৫০২ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির সদস্য। 

গত সপ্তাহে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনএম-এর দায়িত্বে থাকা তৈমুর আলম খন্দকার, যিনি ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী হয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একে “রাষ্ট্রীয় বিষয়” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

বিএনপি’র অনুপস্থিতির কারণে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি – এই সমালোচনা থেকে রেহাই পেতেই মূলত সরকার নতুন নতুন দল গঠন নিয়ে তৎপর।

জাতীয় পার্টির পাশাপাশি “তৃণমূল বিএনপি”, “বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট” ও “স্বতন্ত্র গণতন্ত্র মঞ্চ” নামে সংগঠন গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা।

তৃণমূল বিএনপি’র নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার। এছাড়াও বিএনপির বেশ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

“নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার বিষয়টি দুই রকম। প্রথমত, রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ।  বিএনপিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনের বাইরে থাকে, এটাকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যায় না।”

“আবার যদি নির্বাচনের দিন সত্যিকার অর্থেই বিপুল সংখ্যক ভোটার উপস্থিত হয়ে যায়, তাহলে সেটাকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যাবে।

“তবে সেটা হবে কি না তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”